জরুরী একটি পোষ্ট, সবাই পড়বেন ও ভাল লাগলে শেয়ার করবেন।
শিশুর জীবনে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধ শিশুর জীবনে আশীর্বাদস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত নিয়ামত। এ দুধ শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও আদর্শ খাবার। ইসলাম শিশুকে মায়ের দুধ পান করার বিষয়ে জোর তাগিদ প্রদান করেছে। এটা শিশুর জন্মগত অধিকার ও আল্লাহপাকের সিদ্ধান্ত। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তার চরম হুমকি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহপাক মূসার (আ.) মায়ের কাছে প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি মূসার মায়ের কাছে নির্দেশ দিলাম যে, তুমি তাকে দুধ পান করাও’ (সূরা-কাসাস : ৭)।
শিশুর জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। মায়ের শালদুধ শিশুর জন্য খুব উপকারী। মায়ের বুক থেকে হলুদাভ ঘন-আঁটাল যে দুধ বেরিয়ে আসে তাই শালদুধ। চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায়, একে ‘কোলোস্টাম’ বলে। এ দুধে স্নেহ ও শর্করার পরিমাণ থাকে কম। তবে খনিজ লবণ, লৌহ, রোগপ্রতিরোধী পদার্থ ও আমিষের পরিমাণ সাধারণ দুধের চেয়ে বেশি থাকে। মায়ের দুধ গ্রহণকারী শিশুদের এলার্জি, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, মেনিনজাইটিস, অন্ত্রপ্রদাহ জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক কম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শিশু জন্মের পরপর মায়ের বুক থেকে যে দুধ আসে তা শিশুর জন্য অত্যন্ত সুষম, উপাদেয় ও উপকারী খাবার’ (তিরমিজি)।
জন্মের পর শিশু এক-দেড় বছর বয়স পর্যন্ত খুব দ্রুত বাড়ে। ওই সময় তার বাড়ন্ত শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন। আর নবজাতকের পুষ্টি বলতে মায়ের দুধকেই বোঝায়। এ দুধ কমপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে খেতে দিতে হবে। ছয় মাস পর মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, শিশুর ওপর মায়ের প্রভাব পড়ে থাকে। সুতরাং এ সময় মা’কে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিশুর যাতে দুধের অসুবিধা না হয়, সে জন্য মা’কে কিছু অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে। নবজাতক যেহেতু জন্মের পর অন্যান্য প্রাণীর মতো নিজে খাদ্য সংগ্রহ করে খেতে পারে না, সেহেতু ইসলামী শরিয়া শিশুর জন্য দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করার অনুমোদন করেছে। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে’ (সূরা-বাকারা : ২৩৩)।

No comments:
Post a Comment