Saturday, 14 November 2015

সন্তানকে দুধ পান করানোর সময়কাল হ’ল দু’বছর : বাক্বারাহ ২৩৩, লোকমান ১৪ ও আহক্বাফ ১৫ : বুখারী হা/২৪০৯, মুসলিম হা/৪৮২৮




জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর 

প্রশ্নঃ সন্তান কতদিন পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে পারে? সন্তানকে দুধ না খাওয়ালে পাপী হতে হবে কি? মি‘রাজের রাত্রে রাসূল মহিলাদের বুকে সাপ কামড়াতে দেখলেন পরে জানলেন তারা দুনিয়াতে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতো না। এর সত্যতা আছে কি?
------------
উত্তর-সন্তানকে দুধ পান করানোর সময়কাল হ’ল দু’বছর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে’ (বাক্বারাহ ২৩৩, লোকমান ১৪ ও আহক্বাফ ১৫)।
তবে দু’বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও দুধ পান করালে কোন দোষ নেই। মূলতঃ আয়াত সমূহে দু’বছর দুধ পান করানোর সময়সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হ’ল, দু’বছর পর যদি কোন বাচ্চা অন্য কোন মহিলার দুধ পান করে, তাহ’লে ঐ বাচ্চা তার দুধ সন্তান হিসাবে গণ্য হবে না। বরং তা সাধারণ খাদ্য হিসাবে গণ্য হবে’
­(তাফসীর ইবনে কাছীর; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৪/৬৩)।
দুধ পান সহ সন্তানের সার্বিক প্রতিপালন পিতা-মাতার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে তাদেরকে আল্লাহ্র নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, মহিলা ও তার স্বামী তার সন্তানের দায়িত্বশীল। অতএব তাদেরকে স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে (বুখারী হা/২৪০৯, মুসলিম হা/৪৮২৮)।
তবে মি‘রাজের রাত্রে রাসূল (ছাঃ) মহিলাদের বুকে সাপে কামড়াতে দেখলেন এবং পরে জানলেন যে, তারা দুনিয়াতে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতো না’ এ কথা ভিত্তিহীন।

Friday, 13 November 2015

প্রিয় বোনেরা : আপনিও জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবেন

প্রিয় বোনেরা, আমরা চাই আপনিও তাদের অনুসরণ করে জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবেন। স্মরণ করুন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানী :
নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে, মাহে রমজানে রোজা রাখলে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করলে এবং স্বামীর আনুগত্য করলে, (আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশতের সবগুলো দরজা উম্মুক্ত করে দিবেন।) জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রবেশ করতে পারবে।
একজন মুসলিম নারী হিসাবে আপনাকে সর্বপ্রথম নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
হে নবী, আমি তোমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি, যে ব্যক্তি সময়মত গুরুত্ব সহকারে তা আদায় করবে আমি তাকে নিজ জিম্মায় বেহেশতে প্রবেশ করাব, আর যে নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হবেনা তার প্রতি আমার কোন দায়-দায়িত্ব নেই। ইচ্ছা করলে ক্ষমা করব, নচেৎ শাস্তি দিব।
নামাজের পরপরই একজন মুসলমানের জন্য মাহে রমজানের রোজা পালন করা একান্ত জরুরী। রোজার ফজিলত সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রোজা পালন করবে, তার পিছনের সব গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে। (বুখারী)
নামাজ ও রোজার সাথে সাথে পর্দার ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। হিজাব তথা পর্দার বিধান গ্রহণ করার মাধ্যমেই একজন নারী তার সম্মান ও মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে পারে। এরশাদ হচ্ছে:
হে নবী তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়, এতে করে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।(সূরা আহযাব, আয়াত : ৫৯)
আধুনিক নারীরা মনে করছে পাশ্চাত্যের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারলেই বুঝি উন্নতির উচ্চ চূড়ায় পৌঁছতে পারবে। একবারও কি তারা ভেবে দেখেছেন, যে পথে তারা চলছেন সে পথ থেকে কখনও ফিরে আসতে পারবেন কি-না? আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন কোথায় গিয়ে থামবে আপনাদের জীবনভেলা?

Womem fb.

Womem fb.Click on Photo:-

https://www.facebook.com/groups/423140294422942/955826804487619/?notif_t=group_activity

Thursday, 12 November 2015

স্ত্রীর যেমন স্বামীর প্রতি কর্তব্য অাছে, স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি কিছু কর্তব্য অাছে





স্ত্রীর যেমন স্বামীর প্রতি কর্তব্য অাছে, স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি কিছু কর্তব্য অাছে।


স্ত্রী রাগান্বিত হলে স্বামীর যে কাজগুলো করা দরকারঃ


[পুরোটা পড়ে শেয়ার করুন]




স্বামীর প্রতি কখনও স্ত্রী রাগান্বিত হলে নিচের নির্দেশনাগুলি মেনে চলা প্রত্যেক স্বামীর কর্তব্য-


¤> প্রথমে স্ত্রীর রাগ-অভিমানের কারণ নির্ণয় করে তার সুরাহা করা স্বামীর দায়িত্ব।


¤> স্ত্রীর রাগারাগির সময় সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর করে ঝগড়া না বাড়িয়ে বরং ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিয়ে স্বামী চুপ থাকবে। সেখান থেকে তা সম্ভব না হলে, অন্য ঘরে চলে যাবে। এরপর স্ত্রীর মেজাজ ঠান্ডা হওয়ার পর দরদের সাথে বাস্তব অবস্থা বুঝিয়ে তার মান-অভিমান ও রাগ ভেঙ্গে দিতে হবে।


¤> স্ত্রীর রাগ সামাল দেয়ার মত স্বামীর সামর্থ্য না থাকলে , তখন স্ত্রীর নিকটস্থ ঘনিষ্টজনদের ডেকে তাদের মাধ্যমে সমস্যা নিষ্পত্তি করতে হবে। (দেখুন- সূরা নিসাঃ ৩৫)


¤> স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাধারণ ভুলগুলো ক্ষমা করা এবং পরবর্তীতে না করার জন্য হাসিমুখে শুধরে দেওয়া। স্ত্রী দোষ করে থাকলে বার বার তার দোষগুলো স্বামীর না বলাই উত্তম। অন্যথায় সমস্যা হতে পারে।


¤> স্ত্রীকে তার পছন্দের হাদিয়া-উপঢৌকন দিবেন এবং একান্ত মুহূর্তে ইসলামের কথা, হেদায়াতের কথা বুঝাবে এবং স্ত্রীকে ইসলাম ভালভাবে বুঝার জন্য বই-পত্র কিনে এনে দিতে হবে।


এভাবে কৌশলের মাধ্যমে স্ত্রীর রাগ প্রশমিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি না করাই স্বামীর কর্তব্য।


কেননা-


রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ



" হে পুরুষেরা! তোমরা নারীদেরকে সর্বদা ভাল উপদেশ দাও। কেননা তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে আদম (আঃ) এর বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় দিয়ে। তুমি যদি তাকে সোজা করতে চাও, তাহলে সে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি একেবারে ছেড়ে দাও তাহলে সে বাঁকা হতেই থাকবে"।


তাহলে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী স্ত্রীলোকদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় দিয়ে। তাদের আচরণের মাঝে কিছুটা বক্রতা থাকবেই।


অপরদিকে কেউ সেই বক্রতাকে একেবারে সোজা করার কল্পনা করা নিষ্ফল ও অলীক ধারণা। সে রকম কিছুতে তা ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা আছে বলে হাদীসে শরীফে সতর্ক করা হয়েছে।


তাই নারী তথা স্ত্রীর বক্রতাকে মেনে নিয়েই হিকমত ও কৌশলের সাথে তাদেরকে মানিয়ে নিয়ে ঘর সংসার চালিয়ে যাওয়াই স্বামীর প্রধান কর্তব্য।




এছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পড়ুনঃ


১- সূরা বাকারাঃ ১৮৭, ১৯৭, ২২২-২২৩, ২৪০


২- সূরা নিসাঃ ১৯-২১, ৩৪-৩৫, ১২৮-১৩০


৩- সূরা আরাফঃ ১৮৯-১৯১


৪- সূরা নূরঃ ১-৩৫


৫- সূরা রোমঃ ২১


৬- সূরা তারেকঃ ৫-৭

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন ? : ঘরের কাজ-কর্মে , পরিজনের সহায়তা করতেন


আদম (র)...............আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন ? তিনি বলেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিজনের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় এলে সালাতে চলে যেতেন।

[সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪২]

স্ত্রীর জীবদ্দশায় যদি স্বামী মোহরানা পরিশোধ না করেন, তাহ’লে তার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করতে হবে কি?

প্রশ্ন : স্ত্রীর জীবদ্দশায় যদি স্বামী মোহরানা পরিশোধ না করেন, তাহ’লে তার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করতে হবে কি?
উত্তর : স্বামীর জন্য ফরয কর্তব্য হ’ল স্ত্রীর জীবদ্দশায় মোহরানা পরিশোধ করা (নিসা ৪, মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)।
জীবদ্দশায় তা পরিশোধ করা না হ’লে মৃত্যুর পর স্ত্রীর ওয়ারিছদের মধ্যে মোহরানার অর্থ বণ্টন করে দিতে হবে। অতঃপর স্বামী অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অজ্ঞতাবশে কোন মন্দ কাজ করে, অতঃপর যদি সে তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে তিনি (তার ব্যাপারে) ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (আন’আম ৬/৫৪)।

If Allah can do everything, why does he creates angels ?

Monday, 26 October 2015

একজন নারী তার মাসিক শেষ হওয়ার পর কখন সালাত আদায় করবে, তা কীভাবে সময় নির্ধারণ করবে?


Juber Rahman and Aysha Akhter shared জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর's photo.
জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর with Aysha Akhter and 9 others

প্রশ্ন : একজন নারী তার মাসিক শেষ হওয়ার পর কখন সালাত আদায় করবে, তা কীভাবে সময় নির্ধারণ করবে? একজন নারী তার মাসিকের শেষ সময় শেষ হয়েছে ভেবে সালাত আদায় করল, কিন্তু তারপর তার আবার রক্ত নির্গমন বা বাদামী রঙ এর স্রাব দেখা গেল, তখন তার কি করা ওয়াজিব?
---
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ জন্য।
প্রথমত :
যখন কোনো নারীর মাসিক হয় তখন তা থেকে তার পবিত্রতার চিহ্ন হল রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া তা কম বা বেশি সময়ের জন্য হোক না কেন। ফক্বীহগণের অনেকের মতে, মাসিকের সর্বনিম্ন সময় এক দিন এক রাত এবং সর্বোচ্চ সময় ১৫ দিন।
তবে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ-রাহিমাহুল্লাহ- এর মতে, মাসিকের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়ের কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। বরং যতক্ষণ তার মধ্যে মাসিকের (রক্তের) বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকবে তখনই সেটা হায়েয (মাসিক) হিসেবে গণ্য হবে। তিনি বলেছেন :
“হায়েয (মাসিক), আল্লাহ এর সাথে কুরআন ও সুন্নাহ এ অনেক রকম বিধি-বিধান (বিধি বিধান) সম্পৃক্ত করেছেন, আর এর কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ নির্দিষ্ট করে দেন নি, দুই হায়েযের মাঝখানে পবিত্রতার সময়টিও নির্ধারণ করে দেন নি। কারণ, এতে করে মানুষের জন্য শরী‘আতের বিধান পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে ... ”
এরপর তিনি বলেছেন :
“আর ‘আলেমগণের মাঝে অনেকে এর (মাসিকের )সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সময় নির্ধারণ করেছেন। এরপর সেই নির্ধারিত সময়ের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে অনেকে সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণ করলেও সর্বনিম্ন সময় নির্ধারণ করেন নি। তবে এখানে তৃতীয় মতটি বেশি সঠিক, আর তা হল: এর (মাসিকের) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই।” [মাজমূ‘উল ফাত্‌ওয়া (১৯/২৩৭ )]

দ্বিতীয়ত :
এছাড়া আরও এক ধরণের রক্ত আছে যাকে ইসতিহাযা বলে, যা হায়েযের রক্ত থেকে আলাদা। এর বিধি-বিধান হায়েযের বিধি-বিধান থেকে আলাদা। আর এই রক্তকে হায়েযের রক্ত থেকে নিচের কয়েকটি গুণাবলী দ্বারা পৃথক করা যায়:
রং - হায়েযের রক্ত কালচে আর ইসতিহাযার রক্ত লাল।
ঘনত্ব - হায়েযের রক্ত ঘন, গাঢ় আর ইসতিহাযার রক্ত পাতলা।
ঘ্রাণ - হায়েযের রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত আর ইসতিহাযার রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত নয়; কারণ এটি শিরার স্বাভাবিক রক্ত।
জমাটবদ্ধতা - হায়েযের রক্ত বের হওয়ার পর জমাট বাঁধে না কিন্তু ইসতিহাযা’র রক্ত জমাট বাঁধে, কারণ তা শিরার রক্ত।
হায়েযের কারণে সালাত নিষিদ্ধ হয় আর ইসতিহাযার কারণে সালাত নিষিদ্ধ হয় না বরং সে নারী পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রতি সালাতের জন্য ওযু করবে যদি পরবর্তী ওয়াক্বতের সালাত পর্যন্ত রক্ত পড়া অব্যাহত থাকে, এমনকি সালাত আদায়ের সময়েও যদি এ রক্ত পড়তে থাকে তবে তাতে সালাতের কোনো সমস্যা হবে না।
মূলনীতিটি হল, নির্গত হওয়া রক্ত হায়েযের (মাসিকের) রক্ত হিসেবেই ধর্তব্য হবে; যদি না তা প্রবাহমান হয় এবং গোটা মাস জুড়ে অব্যাহত থাকে, (তখন তা ইস্তেহাযার রক্ত বিবেচিত হবে) এ হচ্ছে শাইখুল ইসলামের মত। অথবা হায়েযের (মাসিকের) সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হলে তবে অধিকাংশ ‘আলেমের মতে তা ইস্‌তিহাযা-এর রক্ত বলে বিবেচিত হবে।
তৃতীয়ত :
একজন নারী তার পবিত্রতা দুটো চিহ্নের যে কোনো একটির মাধ্যমে জানতে পারে:
(১) শ্বেতস্রাব (আল-ক্বাসসাতুল বাইদ্বা’) : আর তা হল একধরনের সাদা তরল পদার্থ যা জরায়ু থেকে বের হয়, এটি পবিত্রতার একটি চিহ্ন।
(২) পূর্ণ শুষ্কতা: যদি কোনো নারীর এই শ্বেতস্রাব না আসে, সেক্ষেত্রে সে রক্ত বের হওয়ার স্থানে সাদা তুলো প্রবেশ করাবে, তা যদি পরিষ্কার অবস্থায় বের হয় তবে সে জানবে যে সে পবিত্র হয়ে গেছে, এরপর সে গোসল করে সালাত আদায় করবে।
আর যদি সে তুলো লাল, হলুদ ও খয়েরী রঙ এর বের হয় তাহলে সে সালাত আদায় করবে না।
আর মহিলা সাহাবীগণ, ‘‘আয়েশাহ্‌ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর কাছে পাত্রে করে তুলো পাঠাতেন যাতে হলদে রঙ (এর স্রাব) থাকতো। তিনি ‘আয়েশাহ্‌ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলতেন : “আপনারা শ্বেতস্রাব না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করবেন না।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী মু‘আল্লাক্ব হিসেবে, (কিতাব আল-হায়েয, বাব ইক্ববাল আল-মাহীদ্ব ওয়া ইদবারিহ) ও মালিক (১৩০)]
তবে যদি এই হলদে বা খয়েরী রঙ এর স্রাব সে নারীর পবিত্রতার দিনগুলোতে (শ্বেতস্রাব বের হওয়ার পর) আসে, তা ধর্তব্য হবে না এবং সে নারী তার সালাত ত্যাগ করবে না, গোসলও করবে না [তবে তা পরিষ্কার করে ওযু করবে] কারণ তা গোসল ওয়াজিব করে না, আর তা থেকে অপবিত্রও হয় না।
এর দলীল হল উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস :
“আমরা পবিত্রতার পর হলদে বা খয়েরী স্রাবকে কোনো কিছু হিসেবে (হায়েয হিসেবে) গণ্য করতাম না।”[আবু দাঊদ (৩০৭),আল-বুখারী (৩২০)]
‘কুদ্‌রাহ’ বা খয়েরী স্রাব ময়লা পানির ন্যায়। ‘কোন কিছু হিসেবে (হায়েয হিসেবে)
গণ্য করতাম না’ অর্থাৎ হায়েয হিসেবে গণ্য করতাম না তবে এতে ওযু করা ওয়াজিব হয়।
তবে যদি খয়েরী বা হলুদ স্রাব হায়েযের সাথে বের হয় তবে তা হায়েযের মধ্যে বলে গণ্য হবে।
চতুর্থত :
যদি কোনো নারী মনে করে যে সে পবিত্র হয়েছে এবং এরপর রক্ত ফিরে আসে এবং সেই রক্ত হায়েযের বৈশিষ্ট্য বহন করে তবে তা হায়েয (মাসিক)। যদি না গোটা মাস জুড়ে অব্যাহত থাকে।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A/শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ-ফাত্‌ওয়া নং - 5595

Sunday, 30 August 2015

আমি কি দাইয়্যুস?

আমি কি দাইয়্যুস?
.
.
যদি না হই তবে উত্তম। তবুও আমাকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী, যাতে এর বিষবাষ্প এরই মধ্যে আমার উপর প্রভাব না ফেলে। তবুও এ ব্যাপারে যথার্থ ভূমিকা গ্রহন করা আর তা অব্যাহত রাখা খুবই জরুরী।

Thursday, 23 July 2015

মোবাইল vs হিজাব




একটা ছোট গল্প
বাবাঃ খুব সুন্দর মোবাইল ! কত দিয়ে কিনলে ?
মেয়েঃ এই তো ৫০,০০০ টাকা দিয়ে ফোন, ১২০০ টাকা দিয়ে কাভার আর ২০০ টাকা দিয়ে স্ক্রিন প্রটেকটর ।
বাবাঃ আচ্ছা তুমি কেন কাভার এবংস্ক্রিন প্রটেকটরটি কিনলে ? তুমি তো চাইলে আরো ১৪০০ টাকা সেইভ করতে পারতে ।
মেয়েঃ বাবা, আমি ৫০,০০০টাকা দিয়ে মোবাইল কিনতে পারলাম, আর এর সুরক্ষার জন্য ১৪০০ টাকা খরচ করতে পারব না ?
বাবাঃ এটা কি অ্যাপল কোম্পানির জন্য অপমান না ? তারা কি যথেষ্ট সুরক্ষার ব্যবস্থা করে ফোনটা তৈরি করেনি ?
মেয়েঃ না বাবা, তারা নিজেরাই পরামর্শ দিয়েছে যেন আমরা স্ক্রিনপ্রটেকটর এবং কাভার ব্যবহার করি এর সুরক্ষার জন্য । আর ফোনটার কোনো ক্ষতি হোক তা আমি চাই না ।
বাবাঃ এটার কারণে কি ফোনটার সৌন্দর্য কমে যাচ্ছে না ?
মেয়েঃ না বাবা, সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে । 
এরপর বাবা তার মেয়ের দিকে তাকালেন এবং ভালোবাসা মাখা একটা হাসি দিয়ে বললেনঃ আমার মেয়ে তুমি জানো আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । তুমি ফোনটা কিনতে ৫০,০০০ টাকা খরচ করলে এবং আরো ১৪০০ টাকা খরচ করলে এর সুরক্ষার জন্য, খুব ভালো । কিন্তু যিনি তোমাকে খুব সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাকে নির্দেশও দিয়েছেন তোমার সুরক্ষার জন্য যেন কাভার তথা হিজাব পরিধান কর, তাহলে তোমার কি সেই সৃষ্টিকর্তার কথা শোনা উচিত না ? ফোনটার সুরক্ষার জন্য তুমি কী করলে তার জন্য তোমাকে আখিরাতে প্রশ্ন করা হবেনা, কিন্তু হিজাবের জন্য আমাকে এবং তোমাকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে ।

এক বা একাধিক কন্যা সন্তান প্রতিপালন




এক বা একাধিক কন্যা সন্তান প্রতিপালনঃ

উকবা ইবন আমির (রা) বলেনঃ আমি রাসূল (সা) কে বলতে শুনিয়াছিঃ যাহার তিনটি কন্যা সন্তান আছে এবং সে তাহার ব্যাপারে ধৈর্য ধারন করে (তাহাদিগকে বোঝাস্বরূপ মনে করে না) এবং তাহাদিগকে সাধ্যানুসারে ভাল (খাওয়ায়) পরায়, উহারা তাহার জন্য দোযখের আগুন হইতে রক্ষাকারী অন্তরাল হইবে।
বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, অনুচ্ছেদ ৪১, হাদীস ৭৬

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণীতঃ
রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে মুসলমানের দুইটি কন্যা সন্তান হইবে এবং সে উহাদিগকে উত্তমভাবে রাখিবে, তাহারা তাকে বেহেশতে পৌছাবে।
বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, অনুচ্ছেদ ৪১, হাদীস ৭৭

Tuesday, 7 July 2015

শিশুর জীবনে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই : ‘আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে’ (সূরা-বাকারা : ২৩৩)



জরুরী একটি পোষ্ট, সবাই পড়বেন ও ভাল লাগলে শেয়ার করবেন।
শিশুর জীবনে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধ শিশুর জীবনে আশীর্বাদস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত নিয়ামত। এ দুধ শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও আদর্শ খাবার। ইসলাম শিশুকে মায়ের দুধ পান করার বিষয়ে জোর তাগিদ প্রদান করেছে। এটা শিশুর জন্মগত অধিকার ও আল্লাহপাকের সিদ্ধান্ত। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তার চরম হুমকি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহপাক মূসার (আ.) মায়ের কাছে প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি মূসার মায়ের কাছে নির্দেশ দিলাম যে, তুমি তাকে দুধ পান করাও’ (সূরা-কাসাস : ৭)।
শিশুর জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। মায়ের শালদুধ শিশুর জন্য খুব উপকারী। মায়ের বুক থেকে হলুদাভ ঘন-আঁটাল যে দুধ বেরিয়ে আসে তাই শালদুধ। চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায়, একে ‘কোলোস্টাম’ বলে। এ দুধে স্নেহ ও শর্করার পরিমাণ থাকে কম। তবে খনিজ লবণ, লৌহ, রোগপ্রতিরোধী পদার্থ ও আমিষের পরিমাণ সাধারণ দুধের চেয়ে বেশি থাকে। মায়ের দুধ গ্রহণকারী শিশুদের এলার্জি, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, মেনিনজাইটিস, অন্ত্রপ্রদাহ জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক কম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শিশু জন্মের পরপর মায়ের বুক থেকে যে দুধ আসে তা শিশুর জন্য অত্যন্ত সুষম, উপাদেয় ও উপকারী খাবার’ (তিরমিজি)।
জন্মের পর শিশু এক-দেড় বছর বয়স পর্যন্ত খুব দ্রুত বাড়ে। ওই সময় তার বাড়ন্ত শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন। আর নবজাতকের পুষ্টি বলতে মায়ের দুধকেই বোঝায়। এ দুধ কমপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে খেতে দিতে হবে। ছয় মাস পর মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, শিশুর ওপর মায়ের প্রভাব পড়ে থাকে। সুতরাং এ সময় মা’কে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিশুর যাতে দুধের অসুবিধা না হয়, সে জন্য মা’কে কিছু অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে। নবজাতক যেহেতু জন্মের পর অন্যান্য প্রাণীর মতো নিজে খাদ্য সংগ্রহ করে খেতে পারে না, সেহেতু ইসলামী শরিয়া শিশুর জন্য দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করার অনুমোদন করেছে। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে’ (সূরা-বাকারা : ২৩৩)।