Saturday, 14 November 2015

সন্তানকে দুধ পান করানোর সময়কাল হ’ল দু’বছর : বাক্বারাহ ২৩৩, লোকমান ১৪ ও আহক্বাফ ১৫ : বুখারী হা/২৪০৯, মুসলিম হা/৪৮২৮




জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর 

প্রশ্নঃ সন্তান কতদিন পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে পারে? সন্তানকে দুধ না খাওয়ালে পাপী হতে হবে কি? মি‘রাজের রাত্রে রাসূল মহিলাদের বুকে সাপ কামড়াতে দেখলেন পরে জানলেন তারা দুনিয়াতে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতো না। এর সত্যতা আছে কি?
------------
উত্তর-সন্তানকে দুধ পান করানোর সময়কাল হ’ল দু’বছর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে’ (বাক্বারাহ ২৩৩, লোকমান ১৪ ও আহক্বাফ ১৫)।
তবে দু’বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও দুধ পান করালে কোন দোষ নেই। মূলতঃ আয়াত সমূহে দু’বছর দুধ পান করানোর সময়সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হ’ল, দু’বছর পর যদি কোন বাচ্চা অন্য কোন মহিলার দুধ পান করে, তাহ’লে ঐ বাচ্চা তার দুধ সন্তান হিসাবে গণ্য হবে না। বরং তা সাধারণ খাদ্য হিসাবে গণ্য হবে’
­(তাফসীর ইবনে কাছীর; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৪/৬৩)।
দুধ পান সহ সন্তানের সার্বিক প্রতিপালন পিতা-মাতার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে তাদেরকে আল্লাহ্র নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, মহিলা ও তার স্বামী তার সন্তানের দায়িত্বশীল। অতএব তাদেরকে স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে (বুখারী হা/২৪০৯, মুসলিম হা/৪৮২৮)।
তবে মি‘রাজের রাত্রে রাসূল (ছাঃ) মহিলাদের বুকে সাপে কামড়াতে দেখলেন এবং পরে জানলেন যে, তারা দুনিয়াতে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতো না’ এ কথা ভিত্তিহীন।

Friday, 13 November 2015

প্রিয় বোনেরা : আপনিও জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবেন

প্রিয় বোনেরা, আমরা চাই আপনিও তাদের অনুসরণ করে জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবেন। স্মরণ করুন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানী :
নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে, মাহে রমজানে রোজা রাখলে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করলে এবং স্বামীর আনুগত্য করলে, (আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশতের সবগুলো দরজা উম্মুক্ত করে দিবেন।) জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রবেশ করতে পারবে।
একজন মুসলিম নারী হিসাবে আপনাকে সর্বপ্রথম নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
হে নবী, আমি তোমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি, যে ব্যক্তি সময়মত গুরুত্ব সহকারে তা আদায় করবে আমি তাকে নিজ জিম্মায় বেহেশতে প্রবেশ করাব, আর যে নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হবেনা তার প্রতি আমার কোন দায়-দায়িত্ব নেই। ইচ্ছা করলে ক্ষমা করব, নচেৎ শাস্তি দিব।
নামাজের পরপরই একজন মুসলমানের জন্য মাহে রমজানের রোজা পালন করা একান্ত জরুরী। রোজার ফজিলত সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রোজা পালন করবে, তার পিছনের সব গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে। (বুখারী)
নামাজ ও রোজার সাথে সাথে পর্দার ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। হিজাব তথা পর্দার বিধান গ্রহণ করার মাধ্যমেই একজন নারী তার সম্মান ও মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে পারে। এরশাদ হচ্ছে:
হে নবী তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়, এতে করে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।(সূরা আহযাব, আয়াত : ৫৯)
আধুনিক নারীরা মনে করছে পাশ্চাত্যের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারলেই বুঝি উন্নতির উচ্চ চূড়ায় পৌঁছতে পারবে। একবারও কি তারা ভেবে দেখেছেন, যে পথে তারা চলছেন সে পথ থেকে কখনও ফিরে আসতে পারবেন কি-না? আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন কোথায় গিয়ে থামবে আপনাদের জীবনভেলা?

Womem fb.

Womem fb.Click on Photo:-

https://www.facebook.com/groups/423140294422942/955826804487619/?notif_t=group_activity

Thursday, 12 November 2015

স্ত্রীর যেমন স্বামীর প্রতি কর্তব্য অাছে, স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি কিছু কর্তব্য অাছে





স্ত্রীর যেমন স্বামীর প্রতি কর্তব্য অাছে, স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি কিছু কর্তব্য অাছে।


স্ত্রী রাগান্বিত হলে স্বামীর যে কাজগুলো করা দরকারঃ


[পুরোটা পড়ে শেয়ার করুন]




স্বামীর প্রতি কখনও স্ত্রী রাগান্বিত হলে নিচের নির্দেশনাগুলি মেনে চলা প্রত্যেক স্বামীর কর্তব্য-


¤> প্রথমে স্ত্রীর রাগ-অভিমানের কারণ নির্ণয় করে তার সুরাহা করা স্বামীর দায়িত্ব।


¤> স্ত্রীর রাগারাগির সময় সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর করে ঝগড়া না বাড়িয়ে বরং ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিয়ে স্বামী চুপ থাকবে। সেখান থেকে তা সম্ভব না হলে, অন্য ঘরে চলে যাবে। এরপর স্ত্রীর মেজাজ ঠান্ডা হওয়ার পর দরদের সাথে বাস্তব অবস্থা বুঝিয়ে তার মান-অভিমান ও রাগ ভেঙ্গে দিতে হবে।


¤> স্ত্রীর রাগ সামাল দেয়ার মত স্বামীর সামর্থ্য না থাকলে , তখন স্ত্রীর নিকটস্থ ঘনিষ্টজনদের ডেকে তাদের মাধ্যমে সমস্যা নিষ্পত্তি করতে হবে। (দেখুন- সূরা নিসাঃ ৩৫)


¤> স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাধারণ ভুলগুলো ক্ষমা করা এবং পরবর্তীতে না করার জন্য হাসিমুখে শুধরে দেওয়া। স্ত্রী দোষ করে থাকলে বার বার তার দোষগুলো স্বামীর না বলাই উত্তম। অন্যথায় সমস্যা হতে পারে।


¤> স্ত্রীকে তার পছন্দের হাদিয়া-উপঢৌকন দিবেন এবং একান্ত মুহূর্তে ইসলামের কথা, হেদায়াতের কথা বুঝাবে এবং স্ত্রীকে ইসলাম ভালভাবে বুঝার জন্য বই-পত্র কিনে এনে দিতে হবে।


এভাবে কৌশলের মাধ্যমে স্ত্রীর রাগ প্রশমিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি না করাই স্বামীর কর্তব্য।


কেননা-


রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ



" হে পুরুষেরা! তোমরা নারীদেরকে সর্বদা ভাল উপদেশ দাও। কেননা তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে আদম (আঃ) এর বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় দিয়ে। তুমি যদি তাকে সোজা করতে চাও, তাহলে সে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি একেবারে ছেড়ে দাও তাহলে সে বাঁকা হতেই থাকবে"।


তাহলে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী স্ত্রীলোকদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় দিয়ে। তাদের আচরণের মাঝে কিছুটা বক্রতা থাকবেই।


অপরদিকে কেউ সেই বক্রতাকে একেবারে সোজা করার কল্পনা করা নিষ্ফল ও অলীক ধারণা। সে রকম কিছুতে তা ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা আছে বলে হাদীসে শরীফে সতর্ক করা হয়েছে।


তাই নারী তথা স্ত্রীর বক্রতাকে মেনে নিয়েই হিকমত ও কৌশলের সাথে তাদেরকে মানিয়ে নিয়ে ঘর সংসার চালিয়ে যাওয়াই স্বামীর প্রধান কর্তব্য।




এছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পড়ুনঃ


১- সূরা বাকারাঃ ১৮৭, ১৯৭, ২২২-২২৩, ২৪০


২- সূরা নিসাঃ ১৯-২১, ৩৪-৩৫, ১২৮-১৩০


৩- সূরা আরাফঃ ১৮৯-১৯১


৪- সূরা নূরঃ ১-৩৫


৫- সূরা রোমঃ ২১


৬- সূরা তারেকঃ ৫-৭

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন ? : ঘরের কাজ-কর্মে , পরিজনের সহায়তা করতেন


আদম (র)...............আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন ? তিনি বলেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিজনের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় এলে সালাতে চলে যেতেন।

[সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪২]

স্ত্রীর জীবদ্দশায় যদি স্বামী মোহরানা পরিশোধ না করেন, তাহ’লে তার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করতে হবে কি?

প্রশ্ন : স্ত্রীর জীবদ্দশায় যদি স্বামী মোহরানা পরিশোধ না করেন, তাহ’লে তার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করতে হবে কি?
উত্তর : স্বামীর জন্য ফরয কর্তব্য হ’ল স্ত্রীর জীবদ্দশায় মোহরানা পরিশোধ করা (নিসা ৪, মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)।
জীবদ্দশায় তা পরিশোধ করা না হ’লে মৃত্যুর পর স্ত্রীর ওয়ারিছদের মধ্যে মোহরানার অর্থ বণ্টন করে দিতে হবে। অতঃপর স্বামী অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অজ্ঞতাবশে কোন মন্দ কাজ করে, অতঃপর যদি সে তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে তিনি (তার ব্যাপারে) ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (আন’আম ৬/৫৪)।

If Allah can do everything, why does he creates angels ?